ডেস্ক নিউজ:

দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় তাকে দেশটির রাজধানী Tel Aviv-এর হাদাসাহ আইন কেরেম মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়।

হিব্রু গণমাধ্যমে নেতানিয়াহুকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, মূলত দাঁতের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখার অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাকে। ফলে ইসরায়েলে তার সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নেতানিয়াহু জানান, তিনি সম্প্রতি হাদাসাহ মেডিকেল সেন্টারে প্রোস্টেটের ম্যালিগন্যান্ট (ক্যানসারজনিত) টিউমারের সফল অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিষয়টি প্রচারণার কাজে ব্যবহার হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি আগে তা প্রকাশ করেননি বলে দাবি করেন। তবে কবে রোগ শনাক্ত হয়েছিল, কখন চিকিৎসা শুরু বা শেষ হয়েছে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি।

নেতানিয়াহুর ঘোষণার সঙ্গে তার বার্ষিক স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ও ক্যানসার চিকিৎসাসংক্রান্ত একটি অতিরিক্ত নথি প্রকাশ করা হয়। তবে সেই প্রতিবেদনে মাত্র পাঁচটি অস্পষ্ট তথ্য ছিল এবং কোন বছরের প্রতিবেদন তা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া নথিগুলোতে হাসপাতালের লোগো বা আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা বিবৃতির কোনো ইঙ্গিতও ছিল না।

এর আগে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে নেতানিয়াহুর শরীরে একটি পেসমেকার বসানো হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের মার্চে তার হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার এবং একই বছরের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট অপসারণের অস্ত্রোপচার করা হয়।

পেসমেকার বসানোর সময় প্রথমে জানানো হয়েছিল, পানিশূন্যতা পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি রামাত গানের সেবা মেডিকেল সেন্টারে এক রাত অবস্থান করেছিলেন। পরে হাসপাতাল জানায়, বাস্তবে তার শরীরে একটি সাবকিউটেনিয়াস হার্ট মনিটর বসানো হয়েছিল। এরপর থেকেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।

চিকিৎসকরা এক সপ্তাহ পরে স্বীকার করেন, হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় করা ইসিজি পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েছিল। যদিও তারা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর হৃদযন্ত্র ‘সম্পূর্ণ স্বাভাবিক’ ছিল।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল